একজন টিপিকাল বাবা

Leave a comment

[আজ আমার আব্বু না বলে না-ফেরার দেশে চলে যাবার বারো বছর হয়ে গেল …]

আমি জানি ফেসবুকে এইরকম “নিউজ”/শোক-স্ট্যাটাস প্রায়ই আসে। আমরাও গা-সওয়া হয়ে গেছে। 

তোমার ওমুকে মারা গেছে, আমি কি করতে পারি? ফাস্ট লাইফ, ফাস্ট স্ক্রলিং-ডাউন …

তবে আমার একটু বাড়তি কথা বলার আছে …

 

বাপ থাকতে আমরা বাপের মর্যাদা দেই না।

মায়ের জন্য অনেকের অনেক কথা আছে, ব্যথা আছে। ইসলামে মায়ের মর্যাদাও বেশি। কিন্তু বাপের কোনও বক্তব্য শোনার টাইম নাই।

বাবা কিন্তু শুরু থেকেই মোটামুটি unsung। সিনেমায় যেমন নায়ক/নায়িকাকে সবাই চেনে, রাস্তায় দেখলে অটোগ্রাফ নিতে দৌড়ায়, কিন্তু যে কিনা পুরা “নাটের গুরু”, পরিচালক, পাবলিকে তার কোন খাওয়া নাই।

 

সংসারে মায়ের ২৪/৭ সার্ভিস টা দেখেই সব সন্তান বড় হয়, আর বাপ সকাল বেলায় অফিস যায়, সন্ধ্যায় ঘরে আসে। আর প্রায়ই উইকেন্ডে বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা মারতে যায়।  কি করে সংসারের জন্য?

আর মাও সকাল সন্ধ্যা বাবার এই “কীর্তিকলাপ” নিজেও “তিলাওয়াত” করে, আর অটোমেটিক বাচ্চাদের “হেফজ” হয়ে যায়।

 

ওদিকে, মাথা ব্যথা নিয়েও বাবা অফিসে যায়, পায়ে হেঁটে হোক আর বাসে ঝুলে হোক; ছুটি কাটা পরবে, ছুটি কমলে ছুটি-বেচা টাকা কমে যাবে বলে। রাতে বাচ্চাকে কোলে রাখতে হয়েছে বলে অফিসে ঝিমুনি এসে যায়; এজন্যে বসের সমস্ত উচ্চবাচ্য শুনে যায় নির্বাকে, বস রাগ করলে বেতন আঁটকে যাবে বলে। 

অনেক দিনই সকালে ঘরে নাস্তা খেতে পারে না, বউ এর শরীর খারাপ বলে; একবারে অফিসের মিনি-মাগনা লাঞ্চ খেয়ে টাকা বাঁচায়। 

মাসের ২৩/২৪ তারিখে একটু সুবিধায় থাকা কলিগের কাছে হাত পেতে ধার করে বাজার চালানোর জন্য। নয়ত ভাল-স্কুলে পড়া মেয়ের বেতন আঁটকে গেছে বলে।

বাকি-চালানোর মুদী দোকানদারও পাওনার কথা বারবার জানান দিতে থাকে। কিন্তু সংসারের চুলা তো বন্ধ থাকে না। নিজে না খেলে হয়ত পেটে একটু কষ্ট হবে, ছেলেমেয়ে না খেলে তো বুকটা হুহু করবে। রাস্তার জামে পড়ে হাজার ক্লান্ত হলেও বাজারটা হাতে নিয়েই ঘরে ঢুকতে হয়। নইলে দিন শেষে আদরের বাচ্চাদের সামনে বিবিসাব “অকর্মা” পদক দিয়ে দিবে। বউএর সব ঝাড়ি বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে হজম করে যায়, সংসার এর ভাঙ্গন ঠেকাতে। বউ হুমকি দেয়, “তোমার বাড়ি” ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যাবে বলে।

কিন্তু “অপদার্থ” বাবা কখনো এই হুমকি দিতে পারে না, নিজেরও বাপের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও। নির্বাক শুনে যায়, কান্না করে শুধু বুকের ভিতর।

 

ছেলে মেয়ে বড় হয়ে যায়। আর বাবা?

আমার বাবার মতো ভালো কপাল হলে একদিন না বলে চলে যায়, আর নয়ত “স্ট্রোক” করে আরও “অপদার্থ” হয়ে যায়, কমপক্ষে প্রেশার, ডায়বেটিস এর ঔষধ হাতড়াতে থাকে।

 

আমি নিজে বাবা হবার আগে কিছুই বুঝিনি যে বাবা আসলে কি চায় … কেনও চায় …

বাবা আসলে “বকবক” করত জ্ঞান দিতে না, আমি আসলে বাবার পাশে বসব কতক্ষণ এইজন্য। কথা বলত শুধু টাইম-পাসের উসিলা হিসেবে।

বাবা মাথা টিপে দিতে বলতো পেইন-কিলার এড়ানোর জন্য না, বরং সন্তানের স্পর্শ গায়ে লাগানর জন্যে।

সুন্দরি স্ত্রীর স্পর্শের চেয়েও যে কুৎসিত সন্তানের স্পর্শ কত বেশি ভালোলাগার, সেটা বুঝার আমার সময় তখনও হয়নি।

বাবা ঔষধের কথা বলে সকালে দেরি করিয়ে দেয়, আসলে সন্তানকে যাবার সময় একটু দেখতে।

বারবার সাবধান করত, এইজন্য না যে সন্তান বোকা, বরং নিজের মরার আগে যেন সন্তানের কোনও ক্ষতি দেখতে না হয়।

সন্তানের সব কটু কথা নির্বিকারে হাসিমুখে শুনে যায়, “ছোটবেলা থেকে ও একটু পাগলা” বলে।

 

আব্বা বেচে থাকলে আমি হাতিরঝিলে ঘুরাতে নিয়ে যেতাম হাওয়া খেতে, হাত ধরে ঘুরতাম, বাদাম ছিলে দিলাম।

মাসে / দুই মাসে একদিন ভালোমন্দ খাওতাম রেস্টুরেন্টে নিয়ে, গুলশানের খোশবু, নয়ত বসুন্ধরার ক্যপ্রিকরনে।

মাথা ব্যথার কথা বললে নাপা খেতে না বলে, টাইগার বাম দিয়ে মাথায় ডলে দিতাম।

বাজারে যাবার সময় কি খেতে মনে চায়, কমপক্ষে এক দুইটা আইটেম, শুনে যেতাম।

মার্কেটের যেই মোবাইলটা বাবার ভাল্লাগে, সেই মোবাইলটা কিনে দিতাম। আমার টাকা নষ্ট করতেছি বলে বকতো, কিন্তু কিনে দিলে না জানি কি খুশি টাই না হতো।

আমার DSLR দিয়ে পিছনে ঘোলা পোরট্রেইট তুলে দিতাম।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আব্বার পাশে বসে কফি খেতাম।

 

কিন্তু,আব্বাটাই যে নাই।

সিনেমার পরিচালকের মতো। credits এ নাম আছে, কেউ খেয়াল করে নাই …

Advertisements

চতুর্থ মেয়ে: চল্লিশটা কথা (মুল লেখক: মার্ক ওপেনহাইমার)

Leave a comment

Forty thoughts on a fourth daughter  (by: Mark Openheimer ) এর বঙ্গানুবাদ

(ভূমিকা: লেখকের সাথে আমার পরিচয় বা খাতির কোনটাই নেই। কোনও টাকাপয়সার ব্যাপারও নেই। লেখাটি পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। হয়তো, লেখকের অনেকগুলা কথাই আমার মতে মিলে যায় বলে। বাচ্চা-কাচ্চার সংখ্যাটা সমাজে একটা ট্যাবুর মতো। তাই বিষয়টার উপর একটা গোছানো একটা আলোচনা পাওয়ায় খুব ভালো লাগলো। লেখাটার স্টাইলটাও বেশ কৌতুক-মিশ্রিত।

আমার স্ত্রী ইংরেজিতে খুব কাঁচা। তাই, ওর জন্যই প্রথমে অনুবাদের কথাটা মাথায় আসলো। আমার মনে হয়, বিষয়টাতে আপনার বক্তব্য যাই হোক না কেন, আশা করি লেখাটা পড়ে আনন্দ পাবেন। আর, আমি চেষ্টা করেছি লেখাটার ভাবানুবাদ করতে, লেখার সুরটা ঠিক রাখতে, শব্দ নয়। আমার অনুবাদ কেমন হোল, সেটাও একটু জানাবেন। অগ্রিম ধন্যবাদ।)

// খালিদ মনসুর

চতুর্থ মেয়ে: চল্লিশটা কথা

১। আমাদের চতুর্থ মেয়ের জন্ম বাস্তিল দিবসে। তবে, এটার আলাদা কোন গুরুত্ব আমার কাছে নেই। যদিও, আমি বারো বছর ফ্রেঞ্চ পরেছি, দুইবার ফ্রান্সে গেছি ঘুরতে। তবে, মেয়েটা যদি আরেকটা দিন দেরি করত, তাহলে সে রেম্ব্রেন্ট, নাবকভের সাথে জন্মদিন মিলে যেত।

২। প্রথম বাচ্চা হওয়ার পরে সবাই হাসপাতালে দেখতে আসে, কিন্তু চার নম্বরটা হবার পরে? কেউ না। শুধু আমাদের বন্ধু অ্যালিসন ছাড়া। ধন্যবাদ, অ্যালিসন।

৩। আমার বন্ধু জেরারডো আমাকে একটা কথা প্রায়ই বলে। যে, যাদের শুধু মেয়ে হয়, ক্যারিবিয়ান স্প্যানিশে একটা চলতি শব্দ আছে। chancletero,যার উৎস chancleta শব্দ, যার অর্থ “পায়ে দেয়ার স্লিপার”। আমি কোনভাবেই বুঝতে পারি নাই, শুধু মেয়ে সন্তান হওয়ার সাথে স্লিপার পায়ে দেয়ার কি সম্পর্ক থাকতে পারে। এটা কি এজন্য যে, এই লোকটার বুটজুতা পায়ে দেয়ার মতো যথেষ্ট পুরুষত্ব নেই? নাকি, সে খুব নরম মনে মানুষ, এটা বুঝাতে? নাকি বুঝায়, মেয়েরা বাবার স্লিপার এনে দেয় পড়তে? (আমার ৬, ৪, ৩ বছর, আর ২ মাস বয়সী মেয়েদের মধ্যে কেউই সেটা করে না যদিও)

৪। আমি দুইটা কুকুর পুষি, ওগুলাও আমার স্লিপার এনে দেয় না।

৫। আমার একটা কুকুর মর্দা আমি ওটার নাম রেখেছি, আর্চি। আর্চি আমার ঘরে আমি বাদে একমাত্র পুরুষ।

৬। চার বাচ্চার বাবার সাথে একজন নিঃসন্তান পুরুষের কিছু মিল আছে। তাদের ব্যপারে মানুষের চিন্তাভাবনা সরাসরি তাদের যৌনাঙ্গের দিকে চলে যায়। যখন কারো বাচ্চা-কাচ্চা না থাকে, লোকে ভাবে তার বাবা হবার ক্ষমতা নেই। আবার যখন কেউ চার বাচ্চার বাবা হয়, তখন লোকে চিন্তা করে তার নিজের উপরে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু এক, দুই, বা তিন বাচ্চার বাবাদের এই সমস্যায় পরতে হয় না। তাদের একদিকে সবল, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত যৌনাঙ্গের অধিকারী মনে করা হয়।

৭। আজকাল চার সন্তান-ওয়ালা খুব কম আমেরিকানই আছে। ২০১০ এর হিসেব অনুযায়ী ৪০-৪৪ বছর বয়স্ক মহিলাদের মধ্যে ১৯.১ শতাংশ তিন সন্তানের মা। কিন্তু মাত্র ৬.৮% এর চারটি সন্তান। মাত্র ২.৭ শতাংশ মহিলা পাঁচ বা ততোধিক সন্তানের মা।

৮। চার সন্তানের বাবা-মাদেরকে ধরে নেয়া হয় যে তারা হয় খুব ধার্মিক, না হয় অর্ধ-শিক্ষিত অথবা দুটোই। কিন্তু আমি আর আমার স্ত্রী দুজনাই তেমন একটা ধার্মিক না, আর অতি-মাত্রায় শিক্ষিত। তাহলে ঘটনাটা কি? আমরা বাচ্চাদের খুব ভালবাসি।

৯। ছয় বাচ্চার বাবা হওয়া কিন্তু চরম মেধার পরিচয় হতে পারে। মনস্তত্ত্ব বিজ্ঞানী অ্যালিসন গপনিক তার পরিবার সম্পর্কে খুব সুন্দর একটা প্রবন্ধ লিখেছেন। তারা ছয় ভাইবোন। ভাই অ্যাডাম নিউইয়র্কার ম্যাগাজিনের লেখক, আরেক ভাই ব্লেক সাহিত্য সমালোচক। ঔপন্যাসিক (ও পরিচালক) গ্যাল্ট নিদেরহপার ছয় মেয়ের মধ্যে একজন। আর তাদের বাবা, নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ছিলেন দেশের একজন শ্রেষ্ঠ অর্থ-বিষয়ক পরিচালক।  আমার মনে হয়, ছয় সন্তানের কম হলে এই ধরনের একটা পরিবার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এটা কি ঠিক ?

১০। লেখক দম্পতি মিখাইল শ্যবন, আয়লেত অয়াল্ডম্যান চার সন্তানের অধিকারী। মনস্তত্ত্ববিদ, “The How of Happiness”-এর লেখিকা সোনিয়া লিউবমিরস্কি, ঔপন্যাসিক ডারা হর্নেরও একই অবস্থা।

১১। আমার চৌদ্দ বছর বয়েসে যখন আমরা চার ভাইবোন হলাম, তখন থেকেই আমি অন্যান্য চার-সন্তান-ওয়ালা পরিবারের ব্যপারে নোট রাখি।

১২। আমার মতে, লেখক-লেখিকারা সন্তানাদি কম থাকার ব্যপারেই বেশি আগ্রহী। আমার বয়সী অন্যান্য লেখক-লেখিকাদের মাঝে আমি সন্তানের চেয়ে ডিভোর্সের সংখ্যাই বেশি দেখি। এটা বিশেষ করে, নিউইয়র্ক এলাকার লেখক-লেখিকাদের মধ্যে খুব বেশি দেখে যায়, আর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাহিত্য-সাময়িকীর সম্পাদকদের মাঝে। আমি লেখক হিসেবে বিখ্যাত হতে পারি নি, কিন্তু আমার বাচ্চারা আমার জন্য বিরাট একটা আনন্দের উৎস। বাচ্চা-কাচ্চা নেই বা খুব কম আছে, এদেরকে বঞ্চিত ভেবেও আমি একটা অবৈধ আনন্দ পাই। এটাকে আমি “Schadenfreude” হিসেবে বলবো। কিন্তু, যে নিজেকে বঞ্চিত মনে করতেছে না, তাকে অভাগা মনে করে আনন্দ পাওয়া কি ঠিক?

১৩। এই লেখাটি আমার এই চতুর্থ বাচ্চাকে উপলক্ষ করে কিছু টাকা কামানোর মতলবে লেখা। কিছুটা যেন ওর নিজের জীবিকা নিজে কামাই নেবার মতো। তবে আমি আমার মেয়েকে এইভাবে ব্যবহার করায় কিছুটা কুসংস্কারাছন্ন, যে এইটা আবার ওর কোন ক্ষতির কারণ হয় কিনা।

১৪। আমার স্ত্রী এবং আমি দুজনাই ইহুদী (এখানে লেখক নিজের কথা বলছেন; অনুবাদক একজন মুসলিম)। আর ইহুদিরা “baby shower”-এ বিশ্বাসী না। (বাংলাদেশে অনেক এলাকায় সন্তানের গর্ভকালীন সাত মাস পূর্ণ হলে এধরনের একটা অনুষ্ঠান করে, যেটাকে এলাকাভেদে সাতোশা; আর বাচ্চা হবার সাত দিন পরে একটা অনুষ্ঠানকে সাতুরিয়া বলে) । এজন্য আমার কোন মেয়ের ক্ষেত্রেই আমরা সেটি করি নি।

১৫। আমি অনেকের ব্যপারেই জানি, যারা আরও সন্তান চায়, কিন্তু হচ্ছে না। এজন্য, আমি আর আমার স্ত্রী প্রায়ই আমাদের সৌভাগ্য নিয়ে কথা বলি যে, আমাদের পরিকল্পনা যদি সফল না হতো, তাহলে কতটা দুঃখ আমরা পেতাম।

১৬। আমার যেই বন্ধুবান্ধবের সন্তান একেবারেই হচ্ছে না, তাদের ব্যপারে আমি অনেক সময়ই বিব্রত বোধ করি; নিজের সৌভাগ্যের কথা চিন্তা করে।

১৭। আমি জানি আপনি কি চিন্তা করতেছেন। হ্যাঁ, এটাই আমাদের পরিকল্পনা ছিল।

যখন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল, আমরা দুজনই নিজেদের চিন্তা-ভাবনা আলোচনা করি। আর এটাও নিজেরা বলাবলি করি যে আমরা দুজনাই চারটি সন্তান চাই।

১৮। না। আমরা দুজনের সংসারে চার সন্তানের কথা আমরা আলাপ করি নি। আমরা প্রথম দেখায় প্রেমেও পরি নি। বরং দুজনার চিন্তা ভাবনা মিলে যাওয়াতে বেশ আনন্দিত হয়েছি।

১৯। আমার স্ত্রীরা দুই ভাইবোন। তারা নিউইয়র্কের পুব-পাশের এলাকায় একটা ছোট্ট এপার্টমেন্টে বড় হয়েছে। বড় সংসারের ব্যপারে তার ধারনাটা পুরাপুরিই বই-পড়া। সংসারে বড় বোনের সাথে শেয়ার করা গল্পের বইগুলা বেশির ভাগই ছিল মেয়ে-বাচ্চা দিয়ে ভরা  all-of-a-kind Family(পাঁচ মেয়ে, ১ ছেলে), Pride and Prejudice(পাঁচ মেয়ে), Little Women(চার মেয়ে)।  Little Women-এ একবারে ছোট মেয়ের নাম অ্যামি, আমার চতুর্থ মেয়েটা গর্ভে থাকতেই ওকে আমরা এই নামে ডাকি।

২০। আমরা ছিলাম চার ভাইবোন। তিন ভাই, এক বোন। আমি সবার বড় ছিলাম। আমরা গড়পড়তায় একটা সুখী পরিবার ছিলাম (যদিও সবসময় না)। আমি মনে করি আমাদের কেউই মনে করে না যে ভাইবোন সংখ্যায় কম থাকলে আমরা আর সুখী হতাম।

২১। কুকুরগুলার কথা বলি। কুকুরগুলা না থাকলে সুবিধাই হতো। কিন্তু ওদের হাঁটানোর উসিলায় আমি অন্তত: দিনে দুইবার সংসারের ঝুট-ঝামেলা রেখে বাইরে ঘুরতে যেতে পারি।

২২। বেশ কয়েকবারই এরকম হয়েছে। লোকজন আমার সন্তানদের (সংখ্যার)  কথা শুনে প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়, “চার বাচ্চা, ও আল্লাহ, এটাতো পাগলামি“। যদিও সাথে সাথেই আবার সরি বলে। কিন্তু আমি প্রতিক্রিয়াটা বেশ উপভোগ করি। আমার বয়স এখন ৩৯, বিশেষ কোন কিছুতে খুব ভালো হবার বয়স আর নেই। আমার টেনিস খেলা, চোখের জ্যোতি, আমার স্মৃতি শক্তি সব কিছুই পড়তির দিকে। কিন্তু সন্তান-সংখ্যা এমন একটা ব্যপার যেটায় আমি বাড়তির দিকে যেতে পারি।

২৩। একদিক দিয়ে চিন্তা করলে, সন্তানাদি মৃত্যুর বিরুদ্ধে একটা বেড়ার মতো। যেন অমরত্বের দিকে এক পা। আমার এক বন্ধুর একটা সন্তান। আমি আশা রাখি, সে বিধাতার ইচ্ছায় দীর্ঘজীবন লাভ করুক, আর তার অনেক সন্তানাদি হোক। কিন্তু (আল্লাহ না করুক), সেটা যদি না হয়, তাহলে ফলাফল কি দাঁড়াবে? আমরা প্রত্যেকেই পিছনে কিছু রেখে যেতে চাই। আমি মনে হয়, খুব পাকাপোক্ত ভাবে সেটা রেখে যাচ্ছি।

২৪। আমার বৃদ্ধ বয়সে আমি একাকীত্বে ভুগবো না। সম্ভাবনা কম যে, তারা সবাই আমাকে ভালবাসবে, আমার যত্ন নিবে। কিন্তু সম্ভাবনা খুব বেশি যে, কমপক্ষে একজন সেটা করবে। কপাল ভালো হলে, দুইজন।

২৫। শুনি যে, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, জার্মান, আর জাপানিদের গড়ে ১.২ করে বাচ্চা। যেটা হচ্ছে, দেশগুলো বৃদ্ধদের দেশে পরিণত হচ্ছে। যদি আপনার সেটাকে দুঃখজনক মনে না হয়, আমি ঠিক জানি না আপনি কেমন মানুষ। হয়তো, খুব চরমপন্থি কেউ। আপনার সাথে কখনো দেখা হলে হয়তো বলতে পারি।

২৬। হ্যাঁ। পরিবেশগত ব্যপারটাও আমি হিসেব করেছি। কিন্তু, যতটুকু করার দরকার, ততটুকু হয়তো না। কিন্তু, আমি একটা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করি, আমারই এক বংশধর হয়তো জলবায়ু-পরিবর্তনের সমাধান বের করবে।

২৭। আমি মনে করি, আরও বেশি লোকজনের চারটা সন্তান থাকা উচিৎ। আমি আরও চাই, আরও বেশি লোকজন একটাও সন্তান না নিক। কারণ, যারা অনেক সন্তান চায়, আর যারা একেবারেই চায় না, তারা ২-বা-৩-সন্তান এই ধারনার কাছে সমানভাবে নিষ্পেষিত।

২৮। না। আমার স্ত্রী গর্ভাবস্থা একেবারেই পছন্দ করে না। কিন্তু, সে এই ব্যপারটায় বাস্তববাদী; তেমন কোন রোমান্টিক চিন্তা ভাবনা নেই। তিনটা বাচ্চাই স্বাভাবিক ভাবে হয়েছে, আর একটা সিজারিয়ান। কোন আহামরি ব্যপার ছিল না একবারও।

২৯। ড্রাইভিং-এর ব্যপারে একটা কথা খুব প্রচলিত। আমার চেয়ে যারা জোরে যাচ্ছে, এরা অভদ্র-উল্লুক, আর আমার চেয়ে যারা আস্তে যাচ্ছে, তারা বেকুব। আমার মতে, পরিবারের আকারও অনেকটা এরকম। আমার চেয়ে যাদের বাচ্চা-কাচ্চা বেশি তারা আহাম্মক, যাদের বাচ্চা-কাচ্চা কম তারা কাপুরুষ।

৩০। আমি জানি, আমার চেয়ে কম বা বেশি সন্তান-ওয়ালা দম্পতিরাও আমাদের নিয়ে একই রকম ভাবে।

৩১। তবে, আমরা পঞ্চম বাচ্চা চাই না। কিন্তু না; আমি ভ্যাসেক্টমিও(পুরুষদের বন্ধ্যাকরণ) করাব না। এক জ্ঞানী ব্যক্তির কথা, ” যদি কোনও লোকের হাতে ছুরি থাকে, তুমি তাকে তোমার পুরুষত্বের কাছেও আসতে দিও না”।

৩২। ৭০-দশকে আমার বাবা যখন আমার বয়সী ছিলেন, ওনার কিছু বন্ধু তখনকার খুবই জনপ্রিয় জনসংখ্যা-বৃদ্ধিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় সদস্য ছিল। তারা নিজেদের মধ্যে একটা আপসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে একটা করে সন্তান হলেই তারা ক্ষ্যন্ত দিবে। কিন্তু একজন যখন চুক্তিটা ভেঙে ফেললো (উনার স্ত্রী দ্বিতীয় বার গর্ভবতী হলেন), অন্য বন্ধুরা ক্ষেপে গিয়েছিলো। কিন্তু কিছুদিন পর, সব ঠিকঠাক। কেউ আর ওটা নিয়ে কথাও ওঠাতো না।

৩৩। ছবির দোকানে অনেক ছবির ফ্রেম পাওয়া যায়, যাতে তিনটা ছবি এক সারিতে লাগানো যায়। কিন্তু চারটা-ছবি লাগানোর মতো একটাও পেলাম না। হয়তো অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, বা নিজে কাঠের কাজ করে বানিয়ে নিতে হবে।

৩৪। কিন্তু এখন আমি কাঠের কাজ শুরু করবো না। কেন? কারণ, আমি খুব, খুব ক্লান্ত।

৩৫। কিন্তু আমি আমার স্ত্রীর মতো ক্লান্ত না। তাকে রাতে ৩/৪ বার ছোট বাচ্চাটার জন্য জাগতে হয়। এরপর আমার ২য় মেয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটায় ওকে জাগায়। ঘুমের সাথে আমার এই মেয়েটার সম্পর্ক একেবারেই খারাপ। এসব কারণে আমার স্ত্রী খুবই ক্লান্ত থাকে। কিন্তু সে তেমন একটা মেজাজ গরম করে না, যদিও সে সারাদিন দৌড়ের উপর থাকে; ঘর গুছানো, রান্না, বাচ্চাদের যত্ন নেয়া, কাজের উপরে কাজ। নভেম্বরে ও চাকরিতে ফিরে যাবে। কিন্তু শুধু সকালবেলাটায় কাজ করবে। আর আমি? যেটা আমি আমার আগের বাচ্চাগুলোর বেলাতেও করেছি। সপ্তাহে তিন-দিন সকালে বাসায় থাকবো, আর বাকি দুইদিন একজন বেবি-সিটার রাখবো।

৩৬। বাচ্চা-কাচ্চার হবার পরে একটা অপ্রত্যাশিত আনন্দ হল, নিজের স্ত্রীকে নতুন নতুন রূপে চিনতে পারছি। মা হিসেবে সে “দুর্ধর্ষ”। বাচ্চারা প্রায় সবসময়ই মায়ের উপর খুশি। আমি মনে করি, সন্তানরা আমাদের দুইজনকে অনেক কাছে এনেছে। যদিও, প্রথম থেকেই আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। তারপরেও।

৩৭। আমরা সুখী। তবে বাচ্চা হবার আগেই সময়টার কিছু জিনিস মিস করি। যেমন, আমরা প্রতিদিন রাতের খাবারের পরে একসাথে ক্রস-ওয়ার্ড পাজল মিলাতাম, প্রতিযোগিতা করে। নিউইয়র্ক টাইমসের পাজল। আমার স্ত্রী সহজ পাজল-গুলা আমার চেয়ে দ্রুত শেষ করতো, তাই সাধারণত: সোম-থেকে-বুধবার ও জিততো। আমি কঠিন গুলো ভালো পারতাম। তাই, বৃহস্পতি থেকে রবিবার আমি জিততাম।  কিন্তু বাচ্চা হবার পর? শেষ কবে খেলেছি, মনেও নেই।

৩৮। আমরা অনেক কিছু পেয়েছিও।  অর্থনীতিতে একটা মতবাদ জাতীয় একটা কিছু আছে যে, অনেক সময় এমন হয় যে একটা জিনিস আপনার নিজের হবার পরে সেটার মূল্য অনেক বেড়ে যায়। যেমন ধরুন, আপনি পাঁচশ টাকা দিয়ে একটা শার্ট কিনলেন পছন্দ করে, কিন্তু কেনার পরে আপনি আর সেটা এক হাজার টাকাতেও বিক্রি করতে রাজি হবেন না। কেন? এখন এটা আপনার নিজের।

একই ভাবে, আপনার কল্পনার সন্তান অনেক যন্ত্রণার উৎস। কিন্তু, সে সন্তান একবার আপনার নিজের হয়ে যাবার পরে, ওকে ছাড়া আপনার হয়তো নিজের জীবনই অকল্পনীয় হয়ে উঠবে।  ব্যাপারটাকে, আরও বাংলায় বলা যায় এইভাবে। যেমন, আপনার একটা সন্তান হবার আগে আপনি কি ওর জন্য এক কোটি টাকা খরচ করতে চাইবেন না। ( এক কোটি সংখ্যাটা একটা কথার কথা, আমার মনে বানানো)। কিন্তু যে সন্তান আপনার (হয়ে গেছে), সেই সন্তানকে কি আপনি এক কোটি টাকায় বিক্রি করতে রাজি হবেন? মনে হয় না।

৩৯। ব্যাপারটা আরেকটু পরিষ্কার করি। আমি এই বাচ্চাটার জন্য কাউকে এক টাকাও দেইনি। সন্তানের বাবা(বা মা) হবার বিষয়টা এই আরেকটা দিক দিয়ে আমার কাছে অভাবনীয়। শিশুর মতো একটা চরম আনন্দের বিষয়, অথচ যে কেউ (অধিকাংশ মানুষই) এই আনন্দের ভাগীদার হতে পারে।

৪০। কমপক্ষে, নগদে কাউকে কোনও টাকা দিতে হয় না। অবশ্য, পরে ওদেরকে নিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাবার খরচের কথা আলাদা।

গত ভোরে হঠাৎ করে

Leave a comment

গত ভোরে হঠাৎ করে

গত ভোরে হঠাৎ করে

Leave a comment

Every bit …

Leave a comment

Every thing, i show;
every time, i laugh;
every sleep, i miss;
every time, i kiss;
every turn, i pass;
every time, i touch;
every ting, i ring;
every love, i bring;

every word, i say;
every line, i pray;
every game, i loss;
every pain, i feel;
every wish, i kill;

every sorry i lie, every fun i try;
it’s amazing, amazing, amazing,
to my unborn child’s burgeoning eye…

 

— Khaled Monsoor

@ Dhaka, Bangladesh

শিরোনামহীন – ০১

Leave a comment

তুমি সূর্য 
আমরা  ভালবাসার  ছায়া 
ভালবাসায় গড়া; কিন্তু মূল্যহীন কায়া …

I am sorry, son …

Leave a comment

Older Entries