আজ দুপুরে আম্রিকান এম্বাসী থেকে পাসপোর্ট হাতে পাইলাম; একটু ভারী, ভিসা স্টিকারটার জন্য।
সেই সাথে মনটাও একটু ভারী, সব প্রিয়জন কে একসাথে হারাবার আগাম ব্যথায়।
মাথা আনন্দে গিজগিজ করছে; আর মন ব্যথায়।
দ্বিত্বতা মানুষের সব কিছুতেই; চাওয়া-পাওয়া সব কিছুতেই। আর মানুষেরই বা কি করা; মানুষের DNA টাই তো double-helix 
কিছুদুর রিক্সায় এসে এরপর উঠলাম ঢাকার ঐতিহ্য ৬ নম্বর বাসে। বাস চললো ধুকে ধুকে। কিন্তু এখন ২৭-বছর ধরে চেনাজানা ঢাকার সবকিছুই কেমন যেনো ভাল লাগতে শুরু করেছে। এমনকি রাস্তার জ্যাম, ঘামে ভেজা মানুষগুলার বেছে থাকার সংগ্রাম, একটা বাচ্চা মেয়ের বাসে উঠে স্লিপ বিলিয়ে কাঁচা ভাষায় সাহায্য চাওয়া, গুলশান লেক থেকে ভেসে আসা বাতাস; সবকিছুই। মানসিক এই প্রতিক্রিয়াটার কি কোন নাম আছে? কি বলা যায়, Pre-emptive Nostalgic Syndrome (PNS)? জ্ঞানী-গুনী কারো জানা থাকলে একটু বইলা দিয়েন।
এখন হুরাতাড়া করে সব গোছাও, শপিং গুলা সারো, টিকেট কনফার্ম করো, ব্যাগ গোছাও, কি নিবা কি ছাড়বা ঠিক করো… ইত্যাদি ইত্যাদি।
এম্বাসী ভিসা দিতে দেরি করলো অনেক; তাই তাড়াহুড়া।
কিন্তু এই তাড়াহুড়ার ভাঁজে-ভাঁজে কি প্রিয়জন হারানোর ব্যথা ভুলে থাকার অভিনয় নেই ?
[আমার এই লেখাটা প্রথম প্রকাশিত হয় সচলায়াতনে অতিথি লেখক হিসেবে ]
Advertisements