আমাগো ডিজিটাল পাসপোর্ট (MRP) কাহানি – পর্ব ২

1 Comment


যাক কাগজ পত্র ফাইনাললি ওক্কে করানের পরের দিন একদম সক্কাল বেলা যাইয়া গেটের বাইরে লাইনে দাড়াইলাম তাও লম্বা লাইন 😦

৯টার সময় গেট খুললে ফাইনাল লাইনে যাইয়া দাড়াইলাম আমার সামনে ১০-১৫ জন লেডিজ গো লাইগা আলাদা লাইন আমার লাইনের পাবলিকের মধ্যে অনেকরেই দেখা গেল, আগের কোনো কামই করে নাই; আইসা এই লাইনে দাড়াইয়া রইছে হায়রে বাঙাল এক আনসারে আইয়া হেডিরে খেদাইলো

দেখলাম এই ডিজিটাল করনের কামডা আসলে করতাছে বিদিশি এক কোম্পানি অফিসের বাইরে যে উস্তাদি করতাছিল, মাইনে লাইন ঠিক করন, টুকেন দেওন ইত্যাদি কাম করতাছিলো, হের গলায় ফিতা ঝুলানি দেখলাম বড় কইরা কোম্পানির নাম “IRIS JV” লেখা ২০-২৫ মিনিটের ভিতরে টুকেন দিয়া দিলো; পাইলাম ১৪ নাম্বার কম্পিউটারে ছাপাইন্না টুকেন

সিরিয়াল আইলো পরে ঢুকলাম ভিতরে পুরা এসি; আহ, কইলজা পুরা ঠান্ডা হইয়া গেলো 😀 পরছিলাম এক নাম্বার কাউন্টারে এক জনে খোপের ভিতরে বইয়া আমার ফরম দেইখা দেইখা নাম ঠিকানা সব কম্পিউটারে উঠাইলো; প্রিন্ট কইরা আমারে দেখতে দিলো; সব ঠিক আছে নাকি; দেখলাম; এইবার বায়োলজিকাল ইনফরমেশন রুমে লাইন দিলাম; সেইহানে ছবি তুলন, আঙ্গুলের টিপসই লওন, সাক্ষর লওন এইগুলা করে
এইখানে কুনো তাড়াহুরা নাই সব ধীর স্থিরের কাম বহুত কায়দা কানুন কইরা ছবি তুললো; চশমা পইরা ছবিখান তুলন গেলো না B-(
সাইন লইল মেশিনের উপরে (Digital drawing pad আরকি) সাইন দেওনের সময় একখান জিনিস খেয়াল কইরা; পারলে চোখ বুইজ্যা সাইন দিবেন; নইলে মেশিনের কেরামতি আর আপনের চোখ মিল্যা সাইনের লাইন হইয়া যাইবো আঁকা-বাকা

বাস; টিপসই, আর সাইন দিয়া কাম শ্যাষ ঠিক ৪৫ দিন পর ডেট দিলো আর নয়া পাসপুট আনতে যাওয়ার আগে ফুন কইরা যাইতে কইল
আর আমার পুরান পাসপুট না রাইখা সেই কথা রিসিটে লেইখা দিলো; আর নতুনডা আনতে পুরানডা লগে নিয়া যাইতে কইল রিসিট নিয়া বাইর হইয়া চইলা আসলাম

দেহি, নয়া পাসপুট ঠিক মতো দেয় নাকি ?! বাংলাদেশ বইলা কথা 😉
Advertisements

যখন তুমি থাকবে না, মা

Leave a comment

শীতের রাতে হিম প্রহরে
তোমায় পড়ে মনে,
দেখে তুমি চাদর দিতে
জড়িয়ে সযতনে।


জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকে
মাগো যখন ডাকি,
তোমার হাতের মাথা ধোয়া
কেউ পারবে নাকি?


কত জনেই ধুলো মাথা
কেউ পারেনা কেন,
পানি তোমার হাতের ছোয়ায়
জ্বর কেড়ে নেয় যেন।


তুমি যখন মারতে মাগো
ব্যথা সাথে সাথে,
এত বছর পরে বুঝি
আদর ছিলো তাতে।


আমার পেটে লাগলে ক্ষুধা
দুঃখ তোমার বেশী,
তুই কি খাবি? তুই কি খাবি ?
রাধ‍ঁ চুলার পাশি।


তোমায় কত ভালবাসি
দেখতে যদি পেতে,
সাথে সাথে আমায় তোমার
বুকে জড়িয়ে নিতে।


শেষ প্রহরে কে মা আমায়
একটু দেখে যায়,
চোখ বুলিয়ে যায় যে খানিক
পরম মমতায়।


দুনিয়াতে আসার সময়
কষ্ট দিলাম কত,
বুকের দুধে হলাম বড়
কষ্ট অবিরত।


ঋণ থাকা তো ভালো না মা
সারা দিনের বোঝা,
কিভাবে তোমার শুধবো এ ঋণ
বলে দাও মা সোজা।


মাফ করে দাও মা’রে আমায়
মমতার এ ঋণ,
আমার দেবার সব ক্ষমতা
ভালোবাসায় লীন।


যখন তুমি থাকবে না, মা,
কেমনে আমি রব,
তোমার কোলে শুয়ে থাকি
তখন কোথায় শোবো।


তুমি তো মা চলে যাবে
মরণের ঐ পাড়ে,
বুকের মাঝে কান্না চেপে
রাখবো কোথায় তারে।


তখন তো আর বলবে না কেউ
দুপুরে কি খাবি ?
বলবো কাকে, অমুকটা চাই
তমুক আমার দাবি।


আমার বুকে তোমার আসন
কেমনে রবে ফাঁকা,
তুমি ছাড়া এ ভুবনে
থাকবো মাগো একা।


যদি আমি যাই গো চলে
মাগো তোমার আগে,
মাথাটা খানিক জড়িয়ে রেখো
গলার নিচের ভাগে।


তোমার চোখের নোনা জলে
গোসল আমায় দিও,
কাফনের ছোট টুকরা খানি
তোমার আচল নিও।


কত ভাগ্য যদি আমি
মরি তোমার সাথে,
দু’কবরে থাকবো পাশে
সাথী দিবা রাতে।


চাঁদের আলো চুমবে দু’গোর
চুমবে একই সাথে,
দু’কবরের ঘাসগুলো সব
হাসবে চাঁদনী রাতে।


মুক্তো মুক্তো শিশির বিন্দু;
পরবে শেষের রাতে।

আমাগো ডিজিটাল পাসপোর্ট (MRP) কাহানি – পর্ব ১

2 Comments

আপনেরা অনেকেই হয়তো ডিজিটাল পাসপুট করানের ধান্দা করতাসেন; সেই লিগাই এই পুষ্টানো; ভুলভাল হইলে ধরাইয়া দিয়েন

গত হপ্তায় গেছিলাম পাসপোর্ট করাইতে যাইয়া দেহি, বিরাট ইতিহাস আনসার আর আর্মি মিল্যা সেরাম অবস্থা মনে হইতাছিলো, কুনো সভ্য-দ্যাশে আইয়া পরছি। 😉

দেয়ালে দেয়ালে চিকা মারা, ছয় মাসের অধিক মেয়াদ থাকলে আপাততঃ পাসপোর্ট নবায়ন করা হচ্ছে না তবে জরুরি, অনেকদিনের লাইগা বাইরে যাইতাছিগা ইত্তাদি ভুংভাং বুঝাইলে মনে হয় এক বচ্ছরের লাইগা নবায়ন করা যায়; একহাজার ট্যাকা লাগে মনে হয় লেকিন আপনার পাসপুট এর মেয়াদ এক বসরের উপরে থাকলে আপনার ঐখানে কোন খাওয়া নাই বাসায় বইয়া ঘুমান
আর নয়া পাসপুট করাইতে তিন হাজার ট্যাকা লাগে তবে জরুরি ফিস বইলা কিছু নাই; যদিও সরকারী বিজ্ঞপ্তিতে জরুরীর কথা লেহা আছে

নয়ডা বাজনের আগেই লাইন শুরু হইয়া যায় আগে আগে গেলে কাম চালু কইরা হইয়া যাইতে পারে তয় লাস্ট টাইম মনে হয় একটা পর্যন্ত দালালগো দেখলাম কোন খাওয়া নাই দেওয়ালের বাইরে খালি দুই একটারে আপ-ঝাপ করতে দেখলাম

বিল্ডিং এর বাইরে দাড়ায়া/দৌড়াইয়া হেলপার হিসাবে আনসাররা কাম করতাছে নরমাল কথাবার্তা গুলান এগো থিকাই জানা যায় টাকা জমা দেয়ার রিসিটও থাকে এগো কাছে
জটিল কেস হইলে ভিতরে হেল্প-ডেস্ক আছে, হ্যাগোরে জিগানো যায়; ওনারা পুরা ফর্ম-কাগজ-পত্র ঠিক আছে নাকি দেইখা দেয়; ফিস রিসিট আঠা দিয়া ফর্ম এর উপর লাগায়া দেয় হেল্প-ডেস্ক এ আর্মি-সিভিলিয়ান দুইটাই আছে সিভিলিয়ানগো অনেকের গলায় কালা ফিতা ঝুলানি

নবায়ন-কেস হইলে একটা ফরম ফিলাপ করন লাগে আর নয়া-কেসে দুইডা ফরম ঐখানে ছাড়া এইখানেও পাইবেন এইখানে সরকারী বিজ্ঞপ্তি গুলাও পাইবেন ফরম ডা সত্তায়ন করাইতে একটু খেয়াল কইরেন সত্তায়ন যে করবো, হ্যারে ফোনে জিগাইতে পারে বইলা শুনলাম আর ফরমডায় যেই নম্বর/রেফারেন্স গুলান দিবেন, যেমন ভোটার-আইডি, জন্ম-সার্টিফিকেট, টিন-নম্বর ইত্যাদি, সেই কাগজ গুলার ফটোকপি লগে দেওন লাগবো আর অরজিনাল-গুলিও দেখান লাগতে পারে, লইয়া যাইয়েন
হেল্প-ডেস্ক থিকা ওকে কইরা দিলে, আরেকটা লাইনে খাড়াইতে হয় ঐখানে ফাইনালি অফিসিয়ালি ওক্কে বইলা একটা সিল ছাপ্পর দিয়া দেয় হেরপর আরেক লাইনে যাইয়া খাড়াইতে হয় লাইন ধরার পর বাঙালি-জাতির সেই হাজার বচ্ছরের খারাপ-অভ্যাস দেখা গ্যালো; লাইন না ধইরা হালকার উপর সামনে ঢুইকা পরনের অভ্যাস ঝারি মারলে এরা আবার ভুং-ভাং দিয়া বুঝানের চেষ্টা করেএগো লগে হালকা কাও-কাও করণ লাগতে পারে

হ্যারপর কি হয় জানা নাই আপনে জানতে চাইলে লাইনে খাড়ায়া দেইখা আইতে পারেন; অর্ এই ব্লগ এর সেকুএল (২য় পর্ব) এর লিগা ওয়েট করতে পারেন

বিশেষ টিপস:
————-
যদি ফ্যামিলির সবার বা কুনো লেডিজের পাসপুট করাইতে চান, তয় মা-বউ-পুলাপাইনরে হুদাই কষ্ট দিয়েন না

১ম দিন দুপুর ১২-১ টার দিকে ফরম ফিলাপ কইরা, সব কাগজ-পত্র-ছবি নিয়া একলা যাইবেন কাগজপত্রে ঝামেলা থাকলে একলা দৌড়াইয়া সব সারেন মনে রাইখেন, বাচ্চা সাইন না করতে পারুক আর না পারুক, সাইন করুক আর নাই করুক, টিপসই অবশ্যই লাগব সব ফরম ফাইনাললি ওক্কে করান তখন একটা ফাইনাল সিল-ছাপ্পর দিয়া দিবো

পরের দিন এক্কেরে সকালে ( ৮:১৫ টার ভিতরে) ব্যাকটিরে নিয়া লাইনে খারান তখনো গেইট খুলবে না; বাইরেই দাড়ায়া থাকেন গেইট খুললে ঢুইকা একবারে ফাইনাল কাউন্টারে যাইয়া লাইন দ্যান (দেখপেন উপরে গেইটের উপরে লাল ডিজিটাল কাউন্টার লাগাইন্যা) সেইখান থিকা টুকেন দিবো সেই টুকেন লইয়া ভিতরে ঢুকবার পারবেন

ওক্কে ?